Friday, 24 February 2017

আমার ভালোবাসার ময়না পাখি

আমার ভালোবাসার ময়না পাখি,
ভালোবাসার তোঁতা পাখি,
করে শুধু জালাতন.…
আমি হাই কোর্টেতে মামলা দিব পুরুষ নির্যাতন। দুধ-কলা খাওয়াইয়া যে পাখিরে পুঁষি
তাহার দেক বিচারের কাছে হইলাম আমি দোষি!! ক্ষনেক পরেই গলায় ফাঁশি..…… ছাড়তে হবে আপনজন।
আমার পাখির মতি-গতি বোঝা বড় দায়!
পাশের বাড়ির পুষার সাথে তাল মিলাইতে চায়, সে গরে-বাইরে করে জালাতন,
গত রাতেও তো তুই আমার সাথেই ছিলি..… সকাল বেলার সূর্য্য দেইখা সবি ভুইলা গেলি

Wednesday, 13 July 2016

কষ্ট বিলাস

কষ্ট বিলাস

আমার কিছু কষ্ট আছে কিনবে নাকি তুমি?
কিছু কষ্ট খুব পুরনো -হীরের চেয়েও দামি।
কিছু কষ্ট খুব স্পস্ট -কিছু কষ্ট ফিকে
একটা কষ্ট ভালবেসে হাত বাড়াবে তোমার দিকে,
যখন তুমি ছুঁতে যাবে-অম্নি দেখ নাই!
তুমি আমার কষ্টটারে ভালোবাসো নাই।
কিছু কষ্ট তুমি আমি- কিছু কষ্ট একা
কিছু কষ্ট বুকের মাঝে-চোখে যায় না দেখা,
কিছু কষ্ট পাথর কোমল-কিছু কষ্ট নাজুক
একটা কষ্ট কেঁদে কেটে ভেজাবে দুই চোখ,
যখন তুমি ছুঁতে যাবে-অম্নি দেখ নাই!
তুমি আমার কষ্টটারে ভালোবাসো নাই।
আমার কিছু কষ্ট আছে কিনবে নাকি তুমি?
কিছু কষ্ট খুব পুরনো -হীরের চেয়েও দামি।
কিছু কষ্ট উড়ছে উড়ুক-কিছু কষ্ট পাশে
কিছু কষ্ট ইশারাতে ডাকবে তোমায় কাছে,
যখন তুমি ছুঁতে যাবে-অম্নি দেখ নাই!
তুমি আমার কষ্টটারে ভালোবাসো নাই।
কিছু কষ্ট পাহার সমান-কিছু কষ্ট নদী
কিছু কষ্ট বরফ শীতল-ছুঁয়ে দেখতে যদি।
নীল কষ্টটা দুষ্ট ভীষণ-লাল কষ্টটার সাথে
কিছু কষ্ট দিনের বেলায়-কিছু কষ্ট রাতে,
যখন তুমি ছুঁতে যাবে-অম্নি দেখ নাই!
তুমি আমার কষ্টটারে ভালোবাসো নাই।
কষ্ট আমার ওষ্ঠ ভেজা-কষ্ট মরুভূমি
কষ্ট আমার হাতের রেখায়- কষ্ট আমার তুমি,
বৃষ্টি ফোঁটায় কষ্ট ঝরে -কষ্ট নীলা খামে
নষ্ট প্রেমের কষ্টটারে বেচবো অনেক দামে,
যখন তুমি ছুঁতে যাবে-অম্নি দেখ নাই!
তুমি আমার কষ্টটারে ভালোবাসো নাই।

Saturday, 25 June 2016

বীর পুরুষ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
বীর পুরুষ

মনে করো, যেন বিদেশ ঘুরে
মাকে নিয়ে যাচ্ছি অনেক দূরে।
তুমি যাচ্ছ পালকিতে, মা, 'ড়ে
দরজা দুটো একটুকু ফাঁক করে,
আমি যাচ্ছি রাঙা ঘোড়ার 'পরে
টগবগিয়ে তোমার পাশে পাশে।
রাস্তা থেকে ঘোড়ার খুরে খুরে
রাঙা ধুলোয় মেঘ উড়িয়ে আসে।।
সন্ধে হল, সূর্য নামে পাটে,
এলেম যেন জোড়াদিঘির মাঠে।
ধূ ধূ করে যে দিক-পানে চাই,
কোনখানে জনমানব নাই,
তুমি যেন আপন-মনে তাই
ভয় পেয়েছ – ভাবছ, 'এলেম কোথা।'
আমি বলছি, 'ভয় কোরো না মাগো,
ওই দেখা যায় মরা নদীর সোঁতা।'
আমরা কোথায় যাচ্ছি কে তা জানে -
অন্ধকারে দেখা যায় না ভাল।
তুমি যেন বললে আমায় ডেকে,
'দিঘির ধারে ওই-যে কিসের আলো!'
এমন সময় 'হাঁ রে রে রে রে'
ওই-যে কারা আসতেছে ডাক ছেড়ে!
তুমি ভয়ে পালকিতে এক কোণে
ঠাকুর-দেবতা স্মরণ করছ মনে,
বেয়ারাগুলো পাশের কাঁটাবনে
পালকি ছেড়ে কাঁপছে থরোথরো।
আমি যেন তোমায় বলছি ডেকে,
আমি আছি, ভয় কেন, মা, করো!'
তুমি বললে, 'যাসনে খোকা ওরে,'
আমি বলি, 'দেখো-না চুপ করে।'
ছুটিয়ে ঘোড়া গেলেম তাদের মাঝে,
ঢাল তলোয়ার ঝনঝনিয়ে বাজে,
কী ভয়ানক লড়াই হল মা যে
শুনলে তোমার গায়ে দেবে কাঁটা।
কত লোক যে পালিয়ে গেল ভয়ে,
কত লোকের মাথা পড়ল কাটা।।
এত লোকের সঙ্গে লড়াই করে,
ভাবছ খোকা গেলই বুঝি মরে।
আমি তখন রক্ত মেখে ঘেমে
বলছি এসে, 'লড়াই গেছে থেমে,'
তুমি শুনে পালকি থেকে নেমে
চুমো খেয়ে নিচ্ছ আমায় কোলে
বলছ, 'ভাগ্যে খোকা সঙ্গে ছিল'
কী দুর্দশাই হত তা না হলে!'

আত্মত্রাণ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
আত্মত্রাণ
বিপদে মোরে রক্ষা করো
এ নহে মোর প্রার্থনা,
বিপদে আমি না যেন করি ভয়।
দুঃখতাপে ব্যথিত চিতে
নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
দুঃখে যেন করিতে পারি জয়।
সহায় মোর না যদি জুটে
নিজের বল না যেন টুটে,
সংসারেতে ঘটিলে ক্ষতি
লভিলে শুধু বঞ্চনা
নিজের মনে না যেন মানি ক্ষয়।
আমারে তুমি করিবে ত্রাণ
এ নহে মোর প্রার্থনা,
তরিতে পারি শকতি যেন রয়।
আমার ভার লাঘব করি
নাই-বা দিলে সান্ত্বনা,
বহিতে পারি এমনি যেন হয়।
নম্রশিরে সুখের দিনে
তোমারি মুখ লইব চিনে,
দুখের রাতে নিখিল ধরা
যেদিন করে বঞ্চনা
তোমারে যেন না করি সংশয়।

তালগাছ

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
তালগাছ
তালগাছ এক পায়ে দাঁড়িয়ে
সব গাছ ছাড়িয়ে
উঁকি মারে আকাশে।
মনে সাধ, কালো মেঘ ফুঁড়ে যায়,
একেবারে উড়ে যায়;
কোথা পাবে পাখা সে?
তাই তো সে ঠিক তার মাথাতে
গোল গোল পাতাতে
ইচ্ছাটি মেলে তার, -
মনে মনে ভাবে, বুঝি ডানা এই,
উড়ে যেতে মানা নেই
বাসাখানি ফেলে তার।
সারাদিন ঝরঝর থত্থর
কাঁপে পাতা-পত্তর,
ওড়ে যেন ভাবে ও,
মনে মনে আকাশেতে বেড়িয়ে
তারাদের এড়িয়ে
যেন কোথা যাবে ও।
তার পরে হাওয়া যেই নেমে যায়,
পাতা কাঁপা থেমে যায়,
ফেরে তার মনটি
যেই ভাবে, মা যে হয় মাটি তার
ভালো লাগে আরবার
পৃথিবীর কোণটি।

মাস্টার বাবু

রবীন্দ্রনাথ ঠাকুর
মাস্টার বাবু

আমি আজ কানাই মাস্টার,
বড় মোর বেড়াল ছানাটি
আমি ওকে মারি নে মা বেত,
মিছিমিছি বসি নিয়ে কাঠি।
রোজ রোজ দেরি করে আসে,
পড়াতে দেয় না ও তো মন,
ডান পা তুলিয়ে তোলে হাই,
যত আমি বলি 'শোন, শোন'
দিনরাত খেলা খেলা খেলা,
লেখা পড়ায় ভারি অবহেলা।
আমি বলি 'চ ছ জ ঝ ঞ'
ও কেবল বলে 'মিয়ো, মিয়ো'

প্রথম ভাগের পাতা খুলে
আমি ওরে বোঝাই মা কত-
চুরি করে খাস নে কখনে,
ভাল হোস গোপালের মতো।

যত বলি সব হয় মিছে,
কথা যদি একটাও শোনে-
মাছ যদি দেখেছে কোথাও
কিছুই থাকে না আর মনে।
চড়াই পাখির দেখা পেলে
ছুটে যায় সব পড়া ফেলে।
যত বলি 'চ ছ জ ঝ ঞ'
দুষ্টামি করে বলে 'মিয়ো'
আমি ওরে বলি বার বার
'পড়ার সময় তুমি পড় -
তার পরে ছুটি হয়ে গেলে
খেলার সময় খেলা কোরো'
ভাল মানুষের মত থাকে,
আড়ে আড়ে চায় মুখপানে,
এমনি সে ভান করে যেন
যা বলি বুঝেছে তার মানে।
একটু সুযোগা বোঝে যেই
কোথা যায় আর দেখা নেই।
আমি বলি 'চ ছ জ ঝ ঞ',
ও কেবল বলে 'মিয়ো মিয়ো'।।

কাজের লোক

নবকৃষ্ণ ভট্টাচার্য
কাজের লোক
মৌমাছি, মৌমাছি,
কোথা যাও নাচি' নাচি'
দাঁড়াও না একবার ভাই''
ওই ফুল ফোটে বনে,
যাই মধু আহরণে
দাঁড়াবার সময় তো নাই''

ছোট পাখি, ছোট পাখি,
কিচি-মিচি ডাকি ডাকি'
কোথা যাও বলে যাও শুনি?''
এখন না ক'ব কথা,
আনিয়াছি তৃণলতা,
আপনার বাসা আগে বুনি''

পিপীলিকা, পিপীলিকা,
দল-বল ছাড়ি একা
কোথা যাও, যাও ভাই বলি''
শীতের সঞ্চয় চাই,
খাদ্য খুঁজিতেছি তাই
ছয় পায়ে পিল পিল চলি''