সত্যন্দ্রনাথ
দত্ত
ছিন্নমুকুল
সবচেয়ে
যে ছোট্ট পিঁড়িখানি
সেইখানি
আর কেউ রাখে
না পেতে
ছোট
থালায় হয় নাকো
ভাত বাড়া
জল
ভরে না ছোট্ট
গেলাসেতে;
বাড়ির
মধ্যে সবচেয়ে
যে ছোট
খাবার
বেলায় কেউ ডাকে
না তাকে,
সবচেয়ে
যে শেষে এসেছিল
তারি
খাওয়া ঘুচেছে
সব-আগে।
সবচেয়ে
যে অল্পে ছিল
খুশি
খুশি
ছিল ঘেঁষাঘেঁষির
ঘরে,
সেই
গেছে,
হায়,
হাওয়ার
সঙ্গে মিশে,
দিয়ে
গেছে জায়গা
খালি করে।
ছেড়ে
গেছে পুতুল,
পুঁতির
মালা,
ছেড়ে
গেছে মায়ের
কোলের দাবি;
ভয়-তরাসে
ছিলো যে সবচেয়ে
সেই
খুলেছে আঁধার
ঘরের চাবি।...
চলে
গেছে একলা চুপে
চুপে-
দিনের
আলো গেছে আঁধার
ক'রে;
যাবার
বেলা টের পেলো
না কেহ,
পারলে
না কেউ রাখতে
তারে ধ'রে।
চলে
গেলো,
- পড়তে
চোখের পাতা,-
বিসর্জনের
বাজনা শুনে
বুঝি!
হারিয়ে
গোলো-
অজানাদের
ভিড়ে,
হারিয়ে
গেলো -
পেলাম
না আর খুঁজি।
হারিয়ে
গেছে-
হারিয়ে
গেছে,
ওরে!
হারিয়ে
গেছে বোল-বলা
সেই বাঁশি
হারিয়ে
গেছে কচি সে
মুখখানি,
দুধে-ধোওয়া
কচি দাঁতের
হাসি।
আঁচল
খুলে হঠাৎ স্রোতের
জলে
ভেসে
গেছে শিউলি
ফুলের রাশি,
ঢুকেছে
হায় শ্মশানঘরের
মাঝে
ঘর
ছেড়ে তাই হৃদয়
শ্মশান-বাসী।
সব-চেয়ে
যে ছোট কাপড়গুলি
সেগুলি
কেউ দেয় না মেলে
ছাদে,
যে
শয্যাটি সবার
চেয়ে ছোট
আজকে
সেটি শূন্যে
পড়ে কাঁদে,
সব-চেয়ে
যে শেষে এসেছিলো
সে
গিয়েছে সবার
আগে সরে
ছোট্ট
যে জন ছিলো রে
সব চেয়ে
সে
দিয়েছে সকল
শূন্য করে।
No comments:
Post a Comment